আমাদের কথা
সেরা মানে সবচেয়ে ভালো। সঙ্গে বাঘের ডাকটাও আছে।
আমরা মিডিয়া কোম্পানি নই, এজেন্সিও নই। আমরা সেই অবকাঠামো, যা একটা সৎ মতামতকে খুঁজে পেতে, দাম দিতে, রক্ষা করতে আর পরিশোধ করতে দেয় — এই বাজারের ঠিক যে অংশটা কেউ বানায়নি।
বাংলাদেশে দিনে কয়েক লক্ষবার একই ঘটনা ঘটে। কেউ একটা জিনিস কিনতে যাচ্ছেন — ইয়ারবাড, একটা সিরাম, একটা রেস্টুরেন্ট, ঈদের একটা শাড়ি। টাকা হাতে, পেজ খোলা। আর তারপর তিনি থেমে যান, আরেকটা ট্যাব খোলেন, আর লেখেন পণ্যের নাম আর “রিভিউ”।
তিনি যা খুঁজছেন সেটা খুব নির্দিষ্ট: এমন একজন মানুষ যিনি এই টাকাটা আগেই খরচ করেছেন এবং বলবেন তারপর কী হয়েছে। মডেল নন, সুন্দর কোণে বাক্স ধরে থাকা অভিনেতা নন, টাকা নিয়ে লাইন পড়া তারকা নন। সাধারণ আলো, সাধারণ ঘর, সাধারণ বাংলা — আর এমন একটা বাক্য: “প্যাকেজিংটা ভালো, কিন্তু ব্যাকআপটা যেমন বলছে তেমন না।”
ওই ভিডিওটা কেনাটা বদলে দেয়। বিজ্ঞাপনটা কখনও পারেনি। আগে বিশ্বাস ছিল তার হাতে যার প্রোডাকশনের সামর্থ্য ছিল; এখন সেটা তার কাছে যে আপনার মতো করে কথা বলে, আপনার মতো করে কেনে, আর মিথ্যা বলে কিছু পায় না। আর সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপারটা হলো অ্যামেচার সংস্করণটা কেন জেতে: কাঁপা ফ্রেম আর থেমে যাওয়া সত্ত্বেও নয়, বরং সেগুলোর কারণেই। অগোছালো ভাবটাই প্রমাণ।
এই পরিবর্তনের দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে দুই দল। হাজারো বাংলাদেশি যাঁরা এমনিতেই বিনা পয়সায় এই কনটেন্ট বানান আর খুশি মনেই এটাকে পেশা বানাতেন। শত শত ব্র্যান্ড যারা জানে তাদের এটা দরকার আর টাকা দিতেও রাজি। মাঝখানে: তালিকা নেই, রেট নেই, চুক্তি নেই, মানের মাপকাঠি নেই, টাকা দেওয়ার উপায় নেই, বিশ্বাস করার উপায় নেই। শুধু ইনবক্স আর ভাগ্য।
তাই সৎ রিভিউয়াররা টাকা পান না, ব্র্যান্ড এমন মনোযোগ কিনতে থাকে যা আর কাজ করে না, আর দর্শক — যাঁদের সঙ্গে কেউ দরকষাকষিই করে না — ধীরে ধীরে শিখে যান যে এখানকার রিভিউ বিক্রি হয়। সবাই হারে এমন একটা সমস্যার কাছে, যেটা আসলে মানুষ নিয়ে নয়।
সেরাব্র্যান্ড সেই অনুপস্থিত সেতু। আমরা বিশ্বাস তৈরি করি না; যাঁদের কাছে সেটা আগে থেকেই আছে তাঁদের খুঁজে বের করি, যেসব ব্র্যান্ডের দরকার তাদের সামনে দাঁড় করাই, আর নিশ্চিত করি লেনদেনটা ন্যায্য, ঘোষিত আর সময়মতো পরিশোধিত।
আমরা যা বিশ্বাস করি
চারটা প্রতিশ্রুতি, যা বেশিরভাগ তর্ক শুরুর আগেই মিটিয়ে দেয়।
০১
সত্যতা
আমাদের পণ্যই বিশ্বাসযোগ্যতা। আমরা দর্শক যাচাই করি, সৎ মতামত রক্ষা করি, ডিসক্লোজার বাধ্যতামূলক রাখি আর ভুয়া কিছু বিক্রি করি না — কারণ এখানকার রিভিউ যেদিন কেনা যাবে, সেদিন আমাদের বিক্রি করার আর কিছু থাকবে না।
০২
সবার জন্য দরজা খোলা
এজেন্সি লাগবে না, স্টুডিও লাগবে না, ইংরেজি লাগবে না, ফলোয়ারের সীমা নেই। ফোন, মতামত আর পরিশ্রম — এটুকুই। অনবোর্ডিং, ব্রিফ আর সাপোর্ট বাংলায় আগে, কারণ এই বাজারে সবচেয়ে কার্যকর বাক্যটা বাংলা বাক্য।
০৩
রোজগার
এটা শখের প্ল্যাটফর্ম নয়। রেট প্রকাশিত, পেমেন্ট আগেই জমা আর সময়মতো, আর ক্রিয়েটরের রেকর্ড তাঁর সঙ্গেই থাকে। দেরিতে পেমেন্টকে আমরা হিসাবরক্ষণের দেরি নয়, পণ্যের ত্রুটি হিসেবে দেখি।
০৪
ফলাফল
সৎ কনটেন্ট দান নয় — এটা বিক্রি বাড়ায়। ব্র্যান্ড দেখে কোন ক্রিয়েটর কী এনেছে আর প্রমাণ দেখে আবার বুক করে। এই ব্যবস্থাটাই বিশ্বাসকে রিচের চেয়ে দামি রাখে।
আমরা যেভাবে বলি
সোজা কথায়, আর যেখানে বিশেষণ বসতে পারত সেখানে একটা সংখ্যা দিয়ে।
আমরা বলি
“১২ সেপ্টেম্বর ৪,৫০০ টাকা যাবে।”
আমরা বলি না
“যথাসময়ে পেমেন্ট প্রক্রিয়া করা হবে।”
আমাদের প্রকাশ করা সবকিছুতেই একই নিয়ম: কোনো দাবির পেছনে প্রমাণ না থাকলে বাক্যটা প্রকাশ হয় না। আমরা একটা গোটা বাজারকে এখনকার চেয়ে বেশি সৎ হতে বলছি, আর প্রেস রিলিজের আড়াল থেকে সেটা বলা যায় না।

জবাবদিহি
আমাদের কীভাবে বিচার করা উচিত।
ইচ্ছে করেই অ্যাপ ডাউনলোড, সোশ্যাল ফলোয়ার বা মোট রিচ দিয়ে নয়। এই সংখ্যাগুলোই আসলে বলবে মার্কেটপ্লেসটা এর ভেতরের মানুষদের জন্য কাজ করছে কি না।
০১
যাচাইকৃত ক্রিয়েটর, নিছক সাইনআপ নয়
০২
যোগ দেওয়ার পর প্রথম পেইড ক্যাম্পেইন পেতে কত দিন
০৩
ঘোষিত তারিখে কত শতাংশ পেমেন্ট গেছে
০৪
ক্রিয়েটরদের মধ্যম আয়, শুধু শীর্ষের আয় নয়
০৫
ষাট দিনের মধ্যে আবার বুক করা ব্র্যান্ডের হার
০৬
ব্র্যান্ডের অন্য চ্যানেলের তুলনায় খরচ প্রতি ফলাফল
০৭
প্রকাশিত প্রতিটি কনটেন্টে ডিসক্লোজার মানার হার
০৮
কেনা এনগেজমেন্টের কারণে বাতিল অ্যাকাউন্ট, বছরে দুবার প্রকাশিত
সীমানা
আমরা যা নই।
- এজেন্সি নই। আমরা ক্রিয়েটরদের মালিক নই, তাঁদের অন্য কাজ থেকে ভাগ নিই না, নিজেরা কনটেন্টও বানাই না — কনটেন্ট বানানো শুরু করলেই আমরা নিজেদের সরবরাহের প্রতিযোগী হয়ে যাই।
- নিছক তালিকা নই। পরিচয় করিয়ে দেওয়াটা সহজ অংশ। যাচাই, ব্রিফ, অনুমোদন, নিশ্চিত পেমেন্ট আর ফলাফলের প্রমাণ — এগুলোই ভেঙে পড়ে, আর এগুলোই আমাদের পণ্য।
- অ্যাড নেটওয়ার্ক নই। আমরা ইম্প্রেশন বা রিচ বিক্রি করি না। এখানে যা কেনা হয় তা একজন নির্দিষ্ট মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা, তাঁর নামসহ।
- গ্রোথ সার্ভিস নই। কারও ফলোয়ার বাড়াতে আমরা সাহায্য করব না। গ্রোথ হ্যাকিং ঠিক সেই মানুষদেরই টানে, যাঁদের এই মার্কেটপ্লেস দূরে রাখতে চায়।
- সততার প্রশ্নে নিরপেক্ষ নই। টাকার প্রশ্নে আমরা সবসময় ন্যায্য, কিন্তু দুই পক্ষ সংঘাতে গেলে সিদ্ধান্ত হয় সেই দিকেই, যেটা কনটেন্টকে বিশ্বাসযোগ্য রাখে।
এমন একটা বাংলাদেশ, যেখানে “ক্রিয়েটর” একটা সাধারণ পেশার নাম — আর ব্র্যান্ডের প্রথম প্রশ্নটা “কে বিখ্যাত” নয়, “কাকে মানুষ বিশ্বাস করে”।
আমাদের কথা
এসব যদি আপনার চেনা বাজারের কথা মনে হয়, কথা বলুন।
ক্রিয়েটর, ব্র্যান্ড, এজেন্সি, সাংবাদিক আর যাঁরা মনে করেন আমরা কোথাও ভুল করছি — সবাই সমানভাবে স্বাগত। বিশেষ করে শেষ দলটা।